বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন
টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রাম নগরীর বেশির ভাগ এলাকা তলিয়ে গেছে। প্রধান সড়কের মুরাদপুর থেকে বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন সড়ক, উপসড়ক এবং অলিগলির কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরপানি জমে যায়। এমনকি বাসাবাড়িতেও পানি জমে যায়। বহদ্দারহাট, চকবাজার, মুরাদপুর, কার্পাসগোলা, বাকলিয়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় দিনভর জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন চলাচল সীমিত ছিল।
মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর বাসভবনের সামনে কোমরপানি, প্রধান সড়কে ওঠার গলিতে গলাপানি এবং প্রধান সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাঁটুপানি ডিঙিয়ে বাসভবনের পেছন দিক দিয়ে বের হন মেয়র। পরে নগরের চকবাজার, কার্পাসগোলা, চন্দনপুরা, বাকলিয়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।
চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘এমন পানি আমার জীবনে আগে কখনো দেখিনি। বর্ষা এলেও সামান্য পানি ওঠে। তবে এবার এত বেশি পানি উঠেছে যে বাসভবনের পাশের সড়ক পেরিয়ে আমার বেডরুমে হাঁটুপানি। আগে কখনো বেডরুমে পানি ঢোকেনি। এ কারণে আমরা বাসভবনের নিচতলা থেকে দোতলায় উঠেছি। আর পানিতে ভাসছে আমার গাড়ি। বাসার সামনের সড়কে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কারণে সকালে বের হতে পারিনি। ’
গত রবিবার রাত থেকে কখনো মাঝারি, কখনো ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হওয়ায় নগরের ষোলশহর থেকে মুরাদপুর হয়ে বহদ্দারহাট প্রধান সড়ক ডুবে যায়। এ কারণে গতকাল সকালে অফিসগামী মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রিকশা ও ভ্যানে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছায় ভুক্তভোগীরা। আবার অনেকে গাড়ি না পেয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।
মুরাদপুর এলাকায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করা আমজাদ হোসেন নামের এক চাকরিজীবী বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে তিনটি গাড়ি পরিবর্তন করে মুরাদপুর এসেছি। কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে। বহদ্দারহাট হয়ে আমাকে যেতে হবে কালুরঘাট শিল্প এলাকায় অফিসে। এখন গাড়ি পাচ্ছি না। ’
অক্সিজেন মোড় এলাকায় কথা হয় রফিক উদ্দিন নামের এক যুবকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের হাটহাজারীর বড় দীঘিরপাড় এলাকায় প্রধান সড়কে হাঁটু থেকে কোমরপানি। সেখানে অনেক গাড়ি আটকে গেছে, দুই পাশে যানজট। আমি আধা কিলোমিটার হেঁটে ওই এলাকা পার হয়েছি। ’